
সাহেদুর রহমান জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় সরকারি খাসজমি, নদীর পাড় কেটে ক্রাশার মেশিন পরিচালনা, ধুলাবালুতে পরিবেশদূষণ এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমাছ (পিতা: মৃত সিকন্দর), ফেরিঘাট নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, ফেরিঘাট এলাকায় সরকারি খাসজমি ও নদীর পাশের অংশ ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি উপেক্ষা করে ক্রাশার মেশিন চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হাত হিসাবে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্রাশার মেশিনের বিকট শব্দে আশপাশের পরিবেশ অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই শব্দ ও ধুলাবালুর মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ধুলাবালুতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং মানুষের চলাচলের রাস্তাটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, নদীর পাড়ে গোসলের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় নারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন বলে তাঁরা জানেন। কিন্তু এরপরও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এলাকাবাসী সরকারি খাসজমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, নদীর পাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি বন্ধ করা, ক্রাশার মেশিনের বৈধতা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই, ধুলাবালু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নারীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ গোসলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।