• ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

রাজস্ব আদায়ে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব আদায় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারিত হয়: সিসিক প্রশাসক

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
রাজস্ব আদায়ে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব আদায় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারিত হয়: সিসিক প্রশাসক

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, “রাজস্ব বিভাগই সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম চালিকাশক্তি। রাজস্ব আদায় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন সহজ হয়। তাই এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনে রাজস্ব বিভাগের কর্মীদের সম্মাননা প্রদান ও রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
​সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) রাজস্ব আদায়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

​বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় নগরভবনের ষষ্ঠ তলার সভাকক্ষে সিসিকের রাজস্ব বিভাগের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। ​সিসিক কর্মচারী সংসদের সাধারণ সম্পাদক আখতার সিদ্দিকী বাবলুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান এসেসর মো. আবদুল বাছিত, কর কর্মকর্তা জামিলুর রহমান, লাইসেন্স কর্মকর্তা রুবেল আহমদ নান্নু, বাজার তত্ত্বাবধায়ক আলবাব আহমদ চৌধুরীসহ রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, “আপনারা যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকেই আপনাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। তাই পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, পর্যটনবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা। এ জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিকল্প নেই। হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে আরও জোর দিতে হবে।”

​সিসিক প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত ১৫টি ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন ও সড়কবাতিসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা দেওয়া হলেও অনেক বাসিন্দা এখনও করের আওতায় আসেননি। নাগরিক সুবিধা ভোগের পাশাপাশি কর পরিশোধের সংস্কৃতিও গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

​অবৈধ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “অনেকেই বড় বড় ভবন নির্মাণ করছেন, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যান নিচ্ছেন না। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব। প্রয়োজনে পূর্ত বিভাগ, রাজস্ব বিভাগ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​বিগত কোরবানির ঈদের বর্জ্য মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যারা রাজস্ব আদায়ে এখনও পিছিয়ে আছেন, তারাও আগামীতে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন।

রাজস্ব আদায়ে বিশেষ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক ও অতিথিরা সংশ্লিষ্টদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- ​কর কর্মকর্তা জামিলুর রহমান, সহকারী কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম, লাইসেন্স কর্মকর্তা রুবেল আহমদ নান্নু, নিবন্ধন পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম, লাইসেন্স পরিদর্শক মো. ফখরুল ইসলাম ও মো. নাহিদ আজিজ, কর আদায় শাখার আদায়কারী গৌতম রায় (বিজ্ঞাপন), আব্দুল আহাদ, রাশিদুল ইসলাম, শেখ মো. ফারহান আহমদ, মো. মিছবাউর হক ফাহিম, আসাদ আহমদ, হাসমত আলী, সীমান্ত দে শপথ ও জামাল উদ্দিন, লাইসেন্স শাখার আদায়কারী অলিউর রহমান, দেবব্রত রায়, মো. আব্দুল মুমিন, শাকিল আহমদ শিপলু এবং মো. ইসমাইল হোসেন।