
হাসান জুলহাস: আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (এসএমইউ) এখন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা ৮০ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবকাঠামো নির্মাণের পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরবর্তী ধাপে টেন্ডারের মাধ্যমে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। কনসালটেন্টের সুপারিশ অনুযায়ী প্রথমে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ভূমি ভরাটের কাজ শুরু হবে। এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি)। তিনি জানান, বর্তমানে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাতটি মেডিকেল কলেজ ও একটি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে। এগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, তদারকি এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রশাসনের সময় আলোচিত নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং মামলাটি হাইকোর্টে রয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে কয়েকটি নিয়োগ বাতিল হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং শুধুমাত্র যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে। তিনি আরও বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার আবেদন বাতিল করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে ১ হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল চালু করা হবে। এর আগে প্রয়োজনীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, লজিস্টিকস ও জনবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তার দাবি, হাসপাতালটি চালু হলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকায়, সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন স্থানে নির্মিত হবে। এ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ৮০ একর জমি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।