• ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

ফলোআপ: গোয়াইনঘাটে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্বপন এবং মান্নানের নেতৃত্বে তছনছ পিয়াইন নদী ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ৫, ২০২৬
ফলোআপ: গোয়াইনঘাটে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্বপন  এবং মান্নানের নেতৃত্বে তছনছ পিয়াইন নদী ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও আইনের তোয়াক্কা না করে পিয়াইন নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে চলেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট| ইজারা-বহির্ভূত সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে| প্রাপ্ত তথ্য মতে, গোয়াইনঘাটের ২ নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের পিয়াইন নদীর পান্তুমাই থেকে মনরতল বাজার পর্যন্ত এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল এবং পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর| এই অংশটিকে বালুমহাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য এর আগে বুগইলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানান|

সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনা করে তৎকালীন প্রশাসন ওই অংশকে বালুমহালের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত দিলেও বর্তমানে সব আদেশ অমান্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ বালু খেকো চক্র| বর্তমানে পিয়াইন নদী তীরবর্তী বুগইলকান্দি, মনাইকান্দি, মনরতল, লংলাখাল, মুরামুরিখাল ও খুরি মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকা চরম হুমকির মুখে| স্থানীয়দের অভিযোগ, হাদারপার বালুমহালের ইজারা নিয়ে তার আড়ালে বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকা ও মনরতল বাজারের মতো সংরক্ষিত স্থান থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পাথর ও বালু তোলা হচ্ছে| ফলে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ| অভিযোগ উঠেছে, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এবং সংশ্লিষ্ট বিটের সাব-ইন্সপেক্টরদের মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে নদী ধ্বংসের এই উৎসব চালাচ্ছে সিন্ডিকেটটি| একই সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা তাঁতিদল নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এই অবৈধ দখল ও বালি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে|

ইজারার শর্তাবলী লঙ্ঘন ও নদীর পরিবেশ ধ্বংসের খবর প্রাকাশ্যে এলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরব ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ| অবিলম্বে পিয়াইন নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার অপসারণ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং এলাকা রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী| এ ব্যপারে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোনালী সিলেটকে বলেন ৭টি মৌজার মধ্যে আমাদেরকে ৫টি মৌজা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে , এখনো ২টি মৌজা বাকী| ইজারা-বহির্ভূত সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন|

০৫ আগস্ট ২০২৬

ফলোআপ: গোয়াইনঘাটে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্বপন এবং মান্নানের নেতৃত্বে তছনছ পিয়াইন নদী ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনা

বিস্তারিত কমেন্টে