• ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

অভিযোগে ঘেরা অতীত ফুকন ডাকাতকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬
অভিযোগে ঘেরা অতীত ফুকন ডাকাতকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফুকন মিয়া দাবি করেছেন যে, তিনি স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইতে সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তার এমন বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ফুকন মিয়ার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুয়া, সাজানো এবং জনমনে সহানুভূতি তৈরির একটি কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের দাবি, ফুকন মিয়া বাস্তবে পায়ে হেঁটে ঢাকা যাচ্ছেন না। বরং তিনি বাসযোগে হবিগঞ্জ পর্যন্ত গিয়ে সেখানে মহাসড়কের পাশে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং ওই ভিডিওতে নিজেকে পায়ে হেঁটে ঢাকা অভিমুখে যাত্রারত হিসেবে উপস্থাপন করেন। পরে তিনি আবার সিলেটে ফিরে আসেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। ফলে তার কথিত পায়ে হেঁটে ঢাকায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কেউ যদি সত্যিই সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন, তাহলে তার যাত্রাপথ, অবস্থান এবং দীর্ঘ পথ অতিক্রমের ধারাবাহিকতার প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু ফুকন মিয়ার ক্ষেত্রে এমন ধারাবাহিকতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ভিডিও ধারণ করে সেটিকে দীর্ঘ পথের যাত্রা হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফুকন মিয়ার বিরুদ্ধে অতীত থেকে বিভিন্ন গুরুতর ফৌজদারি মামলার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডাকাতি মামলায় দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর কারাভোগ করেছেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি পুনরায় কারাভোগ করেছেন বলে দাবি করা হয়।স্থানীয়দের দাবি, ফুকন মিয়ার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, ১৯৯৫ সালের দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওয়্যারলেস ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার একটি ঘটনায়ও ফুকন মিয়া মামলার আসামি হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।স্থানীয়দের বক্তব্য, তার অতীতের এসব ঘটনা সামনে না এনে বর্তমানে নিজেকে একজন অসহায় ও বিচারবঞ্চিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করায় অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, তার বর্তমান দাবি যাচাই করতে হলে অতীতের মামলা ও অভিযোগগুলোর বিষয়ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।তাছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, অর্থের জন্য তিনি বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে হয়রানি করতেন। কারও কাছ থেকে টাকা না পেলে তার বিরুদ্ধে পোস্টার ছাপানো, প্রভাবশালীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অন্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর চেষ্টা—এসব অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে কিংবা প্রত্যাশিত অর্থ বা সুবিধা না পেলে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। কখনো পোস্টার, কখনো প্রচার-প্রচারণা এবং কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অন্যদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কবরস্থান-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তাদের দাবি, একই কবরস্থানের জায়গা একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগও অতীতে উঠেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থানের মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন অনিয়ম তা অত্যন্ত গুরুতর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কবরস্থান কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ অবস্থায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এত অভিযোগ রয়েছে, তিনি কীভাবে নিজেকে নির্যাতিত ও অসহায় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন?, ফুকন মিয়া যদি সত্যিই বিচারপ্রার্থী হয়ে ঢাকার উদ্দেশে পায়ে হেঁটে রওনা হয়ে থাকেন, তাহলে তার যাত্রার প্রতিটি ধাপের সত্যতা যাচাই করা হোক। তিনি কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছেন, কীভাবে পথ অতিক্রম করেছেন, কোথায় কোথায় অবস্থান করেছেন এবং কীভাবে আবার সিলেটে ফিরে এসেছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা দরকার।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, একটি গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের পাশাপাশি তার অতীত, মামলার তথ্য এবং অভিযোগের বিপরীতে থাকা পক্ষগুলোর বক্তব্য নেওয়া উচিত ছিল। তাদের মতে, একপাক্ষিক বক্তব্য প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন,।একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অতীতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নথি, কারাভোগের তথ্য, ১৯৯৫ সালের কথিত ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা, অর্থের বিনিময়ে মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ, পোস্টার ও অপপ্রচারের অভিযোগ এবং কবরস্থান-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ—সবকিছু আলাদাভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।তাদের বক্তব্য, কেউ সত্যিই বিচারপ্রার্থী হলে তার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অতীতের অভিযোগ যাচাই না করে কাউকে একতরফাভাবে নির্যাতিত বা অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন—দুই ক্ষেত্রেই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

১২ আগস্ট ২০২৬

অভিযোগে ঘেরা অতীত ফুকন ডাকাতকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

বিস্তারিত কমেন্টে