
নাবেল আহমদ ,বিয়ানীবাজার : সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরে প্রায় ৭৬ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে উপজেলা পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেয়ালের অংশ। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ডাকসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে কাঠ, বেত ও টিনশেডের স্থাপনায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পোস্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ডাকসেবার পরিধি বাড়তে থাকায় পুরোনো স্থাপনার পাশে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর পর একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই ভবনেই চলছে পোস্ট অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম।
প্রায় সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফলে সময়ের সঙ্গে ভবনটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল এবং পলেস্তারা খসে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বর্তমানে মাত্র সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে বিয়ানীবাজার পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। জনবল সংকটের পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভবনের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে সেবা নিতে আসা মানুষের জন্যও তৈরি হয়েছে অনিরাপদ পরিবেশ।
পোস্ট অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা উদ্বেগজনক। ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিয়ানীবাজার পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার আপেল মাহমুদ বলেন, “ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, “ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির সংস্কার না হওয়ায় এখন তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ডাকসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত ভবনটির সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।