• ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

সেই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তা আসছেন না সিলেটে

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৬
সেই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তা আসছেন না সিলেটে

টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে বদলি হওয়া ২০২০ সালের দুদকের মামলার আসামি ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তা আবজাউল আলম আসছেন না সিলেটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, এক আদেশে টাঙ্গাইল থেকে তাকে ঢাকার উত্তরার পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্সের বেসিক ক্লিয়ারেন্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে বিষয়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা সেলের দায়িত্ব পাচ্ছেন না আবজাউল আলম।

জানা গেছে, মায়ের নামের বানান নিয়ে আবেদনকারী ব্যক্তির হয়রানির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমকে বদলি করা হয়েছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ টি এম আবু আসাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে আবজাউল আলমকে ঢাকার উত্তরার পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্সের বেসিক ক্লিয়ারেন্স শাখায় সংযুক্ত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিসা সেলেও দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি জানাজানির পর সিলেটের সচেতন মহল তাকে সিলেটে দায়িত্ব না দেওয়ার জোর দাবি জানান।

প্রকাশিত খবরসূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন টাঙ্গাইলের ভুক্তভোগী জুনাইদ হাসানের মায়ের নামের বানান ‘ব্যাকরণসম্মত’ নয় দাবি করে পাসপোর্ট করা হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। হয়রানির সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, জুনাইদ পাসপোর্টের ফাইল জমা দিতে গেলে আবজাউল আলম তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি, জুনাইদের মায়ের নাম বাংলায় ‘জহুরা’ হলেও ইংরেজিতে লেখা ‘Johora’। বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী হ্রস্ব-উকারের প্রতিবর্ণী হিসেবে ইংরেজিতে ‘U’ লিখতে হবে। বানান ঠিক না করলে তিনি ফাইল নেবেন না।

ভাইরালের পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (৪ জুলাই) সখীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগীর ভাই মাসুদ রানা।

তিনি অভিযোগ করেন, সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও জুনাইদের আবেদন অযৌক্তিক কারণে বাতিল করা হয়েছে। মাসুদ রানা পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ঘটনার তদন্ত চেয়ে দায়ী কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি পাসপোর্ট অফিসকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানান।
এই ঘটনার পর অন্য ভুক্তভোগীরাও মুখ খুলছেন। তাদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গেলে কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

অপরদিকে, ২০২০ সালের ১৬ মার্চ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘ভারতীয় নাগরিককে পাসপোর্ট দেয়া সেই এডি লাপাত্তা!’ শিরোনামে এই আবজাউল আলেমের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এতে উল্লে করা হয়- ‘ভারতের নাগরিককে বাংলাদেশি দেখিয়ে পাসপোর্ট প্রদানের সঙ্গে জড়িত বগুড়ার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বর্তমান সহকারী পরিচালক (এডি) আবজাউল আলম গত তিনদিন ধরে লাপাত্তা। দুদকের মামলায় গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপন করেছেন বলে প্রচারণা রয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সহকারী পরিচালক আবজাউল আলম গত ৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগদান করেন। তিনি গত ২০১৭ সালে রাজশাহী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। তখন ভারতীয় নাগরিক হাফেজ আহমেদকে বাংলাদেশি দেখিয়ে পাসপোর্ট দেন। হাফেজ আহমেদ ওই পাসপোর্টে ভারত হয়ে সৌদি আরবে গেছেন।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে ঘটনাটি তদন্ত হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১২ মার্চ দুদক রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক মধুসূদন সরকার সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে  বলেন- আবজাউল আলম সিলেটে আসছেন না। তিনি ঢাকার উত্তরার পার্সোনালাইজেশন কমপ্লেক্সের বেসিক ক্লিয়ারেন্স শাখায় সংযুক্ত হিসেবে আছেন।

০৬ জুলাই ২০২৬

সেই ‘দুর্নীতিবাজ’ কর্মকর্তা আসছেন না সিলেটে

বিস্তারিত কমেন্টে