
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারতীয় চোরাই পণ্য পাচারের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আর এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত হিসেবে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত চোরাকারবারি আল-আমিনের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু সীমান্ত ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, জৈন্তাপুরের গুয়াবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প ও রাজবাড়ি বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় আল-আমিনের প্রভাব রয়েছে। তার মাধ্যমে সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে—এমন সময়ে সীমান্তে কথিত ‘লাইনম্যান’ হিসেবে এক চোরাকারবারির নাম সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন। যদি সত্যিই কোনো চোরাকারবারি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করে অবাধে চোরাচালান পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আল-আমিনের নেতৃত্বে বা তার নিয়ন্ত্রণে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জিরা, কসমেটিকস, শাড়ি-কাপড়, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পণ্য। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও মদ এবং এমনকি অবৈধ অস্ত্রও সীমান্তপথে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালানের এই বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের অবৈধ লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সীমান্তের চোরাচালান বন্ধে শুধু পণ্য আটক বা ছোটখাটো বাহক গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়; বরং চোরাচালানের নেপথ্যের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগে আরও জানা যায়, জৈন্তাপুর গুয়াবাড়ি এলাকার সেলিম আহমদের ছেলে আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পরিচিত। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানের আগে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সীমান্তের চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে আসন্ন সাঁড়াশি অভিযান কি কেবল বাহক ও পরিবহনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি চোরাচালানের মূল নিয়ন্ত্রকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে?
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় কোনো চোরাকারবারি যদি সত্যিই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করে চোরাচালান পরিচালনা করে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তারা অবিলম্বে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে শুধু চোরাকারবারি নয়, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠপোষক, সহযোগী এবং চোরাচালানকে সহায়তাকারী যে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সীমান্তে চোরাচালান বন্ধের যে কোনো উদ্যোগই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে আল-আমিনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সে কোন বক্তব্য দিতে চায়না। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিজিবি ক্যাম্প ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।