• ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

মহাসড়ক হয়েছে, হারিয়েছে সবুজ: খরতাপে পুড়ছে ভোলাগঞ্জ

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬
মহাসড়ক হয়েছে, হারিয়েছে সবুজ: খরতাপে পুড়ছে ভোলাগঞ্জ

মনোয়ার পারভেজ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের পর্যটন ও বাণিজ্যিক অঞ্চল ভোলাগঞ্জের সঙ্গে মূল শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়ক। স্থলবন্দর ও পাথর কোয়ারির পণ্য পরিবহন সহজ করতে ২০১৫-১৬ সালে নেওয়া হয় মহাসড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন এলেও এর জন্য কাটা পড়ে হাজার হাজার শতবর্ষী ও ছায়াদার গাছ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের স্বার্থে গাছ কাটা হলেও এর পরিবেশগত ক্ষতি পূরণে পরবর্তীতে নেওয়া হয়নি কার্যকর ও পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ফলে এক সময়ের সবুজ বেষ্টনীঘেরা ও তুলনামূলক শীতল ভোলাগঞ্জ অঞ্চল এখন গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে।

মহাসড়ক নির্মাণের আগে সড়কের দুই পাশে সারি সারি বড় গাছ ও ঘন সবুজ পরিবেশ ছিল। এসব গাছ এলাকার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সড়ক প্রশস্ত করার সময় ব্যাপকভাবে গাছ কেটে ফেলার পর সেই সবুজ বেষ্টনী আর ফিরে আসেনি।

স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষ্য, অতীতে গ্রীষ্মকালেও ভোলাগঞ্জের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সহনীয় ছিল। কিন্তু বড় গাছপালা কেটে ফেলার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। এখন দীর্ঘ বৃক্ষশূন্য পিচঢালা মহাসড়ক ও আশপাশের খোলা জায়গায় তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে হাজার হাজার গাছ কাটা হলেও তার বিকল্প হিসেবে কেন কার্যকর বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো না?

পরিবেশ সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় ধরনের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত পরিপূরক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ বৃক্ষশূন্য পিচঢালা সড়ক দিনের বেলায় তাপ শোষণ করে আশপাশের পরিবেশে অতিরিক্ত উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে স্থানীয় পরিবেশ ও জনজীবনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এ অবস্থায় ভোলাগঞ্জের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত মহাসড়কের দুই পাশে পরিকল্পিত বনায়নের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, ছোট ও দুর্বল চারা রোপণ করে দায়সারা উদ্যোগ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। স্থান উপযোগী বড় জাতের সুস্থ ও টেকসই গাছের চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলো রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষ করে প্রতিটি চারার চারপাশে সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে গবাদিপশু বা অন্য কোনো কারণে চারাগুলো নষ্ট না হয়। একই সঙ্গে শুধু চারা রোপণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করে ব্যাপক সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি নেওয়ারও দাবি উঠেছে। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

ভোলাগঞ্জ অঞ্চলের সুষম পরিবেশ ও স্বাভাবিক আবহাওয়া রক্ষায় উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, দ্রুত পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ শুরু না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত সংকট আরও প্রকট হতে পারে। এখন স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা—উন্নয়নের মহাসড়কের দুই পাশে আবার ফিরুক সবুজের ছায়া।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাসড়ক হয়েছে, হারিয়েছে সবুজ: খরতাপে পুড়ছে ভোলাগঞ্জ

বিস্তারিত কমেন্টে