
সদর উপজেলা প্রতিনিধি: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ও বিমানবন্দর থানা এলাকার বরজান চা বাগানে মাদক ও জুয়ার রমরমা বাণিজ্য চলছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, চা বাগানের বিভিন্ন বস্তি লাইন ও সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ও গোপনে মদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা এবং সেবন চলছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও জুয়া ও তীর জুয়ার আসর বসারও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদিম চা বাগানের বস্তি লাইন, সবুজ প্রেসিডেন্ট এলাকা, ফিসারি রোডের ভেতরের কয়েকটি স্থান এবং বরজান চা বাগানের মাঝলাইন বস্তি এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় বিভিন্ন ঘরে বসেই মাদক সেবন ও বিক্রির পাশাপাশি জুয়ার আসর পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে এসব স্থান থেকে মাদক সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ঘটনাস্থলেই মাদক সেবন করছে। স্থানীয়দের দাবি, মোটরসাইকেল ব্যবহার করেও মাদক সরবরাহ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। মোহন উপজাতি কুলি, কবির চাষা,উপজাতি কুলি জগদীস উপজাতি কুলি,সহ বিভিন্ন জন, তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী বা ছোটখাটো পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করা হলেও কথিত মূল বিক্রেতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের আগের মতো মাদক কেনাবেচা শুরু হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চা বাগান ও বস্তি এলাকার তরুণ-যুবকদের মধ্যে মাদকাসক্তি এবং অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মাদক ও জুয়ার সহজলভ্যতা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বরজান ও খাদিম চা বাগান এলাকার কথিত মাদক স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি বা যোগসাজশের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।