
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, শেফ ও কুকের পেশা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষিত সমাজের অনেকে এ পেশাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ পেশায় আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে সিলেট বিভাগের শেফ’স ও কুক আয়োজিত ‘মিট দ্য শেফ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, রন্ধনশিল্প প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি মর্যাদাপূর্ণ শিল্প ও পেশা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দিন দিন এ পেশার প্রতি শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বাড়ছে। এটি ইতিবাচক পরিবর্তন। সমাজের সব ধরনের পেশাকে সম্মানের সঙ্গে দেখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ রয়েছেন। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের একটি বড় অংশ কর্মক্ষম। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র, উদ্যোক্তা ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব। কর্মক্ষম মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করা গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, শেফ ও কুকের পেশায় এখন নারী-পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ পেশাকে আরও পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে হবে। বিভিন্ন দিবস, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সেমিনার আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজকে এ পেশার প্রতি আরও আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের হসপিটালিটি সেক্টর অনেক বড় হয়েছে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফাইভ স্টার, ফোর স্টার ও থ্রি স্টার মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত শেফ ও কুকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে পারলে দেশে-বিদেশে তাদের কাজের সুযোগ আরও বাড়বে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশে ও বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সিলেট থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, শেফের কাজ শুধু খাবার তৈরি করা নয়; খাবার পরিবেশন, উপস্থাপন এবং অতিথিদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও এ পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক হসপিটালিটি সেক্টরে দক্ষ শেফদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তাই এ পেশাকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন নূর। এ ছাড়া শেফ ও কুক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিশ্ব শেফ দিবস উপলক্ষে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও হসপিটালিটি সেক্টরের শেফ, কুক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।