• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগ: ওসি সহিদ উল্ল্যার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুলাই ৩০, ২০২৬
অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগ: ওসি সহিদ উল্ল্যার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

​স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এক আলোচিত হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে প্রধান আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ​বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের নিহত নাসিম মিয়ার পরিবার এ অভিযোগ তোলে। এতে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নাসিমের স্ত্রী রূপসা আক্তার।

​কণ্ঠ রুদ্ধ করে রূপসা আক্তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আসামিপক্ষের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন। ​তিনি বলেন, “আমার স্বামী হত্যার পর ন্যায়বিচারের আশায় থানায় গেলে ওসি মামলা নিতে প্রথমে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ডালি ও অলির নাম কেটে না দিলে মামলা নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে মামলা নেওয়া হলেও, এজাহারভুক্ত ১১ জন আসামির মধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ ৯ জনকেই অন্যায়ভাবে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

​চার সন্তানকে এতিম করার বিচার চেয়ে রূপসা আক্তার এই মামলার পুনস্তদন্তের দাবি জানান। বাদ পড়া প্রকৃত আসামিদের চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ​সংবাদ সম্মেলনে নিহতের বড় ভাই আলামিনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। রূপসা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, প্রধান আসামিদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া ছাড়াও বাকি আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে পরিবারটিকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন ২০২৬ তারিখে পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মেহেদী হাসান ডালি ও আনু মিয়াসহ কয়েকজন নাসিম মিয়ার চাচাতো বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। নাসিম এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এর দুই দিন আগে নাসিমের ভাই জসিমের মোটরসাইকেল আটকে ভয়ভীতি দেখানো ও কবর খুঁড়ে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। ​পরবর্তীতে ৭ জুন পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ডালি ও আনু গংরা নাসিমের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে সে গুরুতর আহত হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

​ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে চার্জশিট থেকে প্রধান আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সহিদ উল্ল্যা। ​তিনি জানান, “পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে নাসিম হত্যাকাণ্ডের সাথে যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে, কেবল তাদের নামেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি থাকলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারতেন। চার্জশিট দাখিলের পূর্বে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তদন্তের বিষয়টি ব্যাখায় প্রকাশ করা যেত।”

৩০ জুলাই ২০২৬

অর্থের বিনিময়ে হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে আসামি বাদ দেওয়ার অভিযোগ: ওসি সহিদ উল্ল্যার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বিস্তারিত কমেন্টে