
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের আলমপুরস্থ মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) কম্পিউটার ব্যাচের শিক্ষক আউয়ালের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিলেটি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী কেন্দ্রের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক আউয়াল কম্পিউটার ব্যাচের ক্লাসে সিলেটি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছেন। কোনো শিক্ষার্থী স্থানীয় সিলেটি ভাষায় কথা বললে কিংবা তার সিলেটি পরিচয় জানতে পারলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মানসিক চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কোর্স শেষ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী একাধিক নারী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের কারণে কম্পিউটার ব্যাচে স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। সিলেটি ভাষায় কথা বলা কিংবা সিলেটি পরিচয় প্রকাশের পর তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে আঞ্চলিক পরিচয় বা ভাষার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাই নয়, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমপুর মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।