
স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিজেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করার অভিযোগে মো. সাইফুর রহমান রুনেল (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে বিজিবির লোগোযুক্ত পোশাক ও ব্যাগসহ হোটেল থেকে চুরি করা মালামাল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমান রুনেল দিরাই পৌরসভার জাকারিয়া আবাসিক হোটেলে বিজিবি সদস্য পরিচয়ে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। হোটেলে অবস্থানের সময় তিনি নিয়মিত বিজিবির লোগোযুক্ত পোশাক পরতেন এবং বিজিবির লোগোযুক্ত ট্রাভেল ব্যাগ ব্যবহার করতেন। এতে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি নিজেকে বিজিবির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।
কয়েক দিন হোটেলে অবস্থানের পর রুনেল কক্ষ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তার চলাফেরা ও আচরণ হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তিনি হোটেল ত্যাগ করার পর কর্তৃপক্ষ কক্ষটি পরীক্ষা করে দেখেন।
কক্ষটি তল্লাশি করে হোটেলের একটি ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, একটি আয়না, একটি বেসিনের সেলফ ও একটি তোয়ালে পাওয়া যাচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এতে হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যে, কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় ওই ব্যক্তি এসব মালামাল সঙ্গে নিয়ে গেছেন।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিভিন্ন স্থানে লোক পাঠিয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে ছাতকের জাউয়া বাজার এলাকায় তার অবস্থানের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তাকে আটক করে দিরাই থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রুনেল হোটেলের কক্ষ থেকে উল্লিখিত মালামাল চুরির কথা স্বীকার করেন। পরে তার কাছ থেকে বিজিবির লোগোযুক্ত পোশাক ও ব্যাগসহ চোরাই মালামাল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বিজিবির সদস্য কি না, সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে হোটেলে অবস্থানের সময় বিজিবির পোশাক ও লোগোযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করে নিজেকে বিজিবি সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় দিরাই থানায় চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান রুনেলকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আটকের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।