
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নম্বর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় চোরাচালান ও পুলিশের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ভারতীয় পণ্য আনা এবং তা কেন্দ্র করে একটি সক্রিয় চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় কসমেটিকস, কম্বল, চিনি, চা-পাতা, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। এসব পণ্য মজুত ও সরবরাহের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক দোকান ও গোডাউন।
এ ঘটনায় রোবেল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চোরাচালানে সম্পৃক্ততা এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, রোবেল দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এবং নলজুরি পুলিশ ফাঁড়ির কথিত ‘লাইনম্যান’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলজুরি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাজিব রায়ের সঙ্গে রোবেলের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পুলিশের নাম ব্যবহার করে নিয়মিত টাকা আদায় করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিন আদায় করা অর্থের একটি অংশ হিসাব করে সপ্তাহ শেষে পুলিশকে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা বা দৈনিক চাঁদা না দিলে সীমান্ত দিয়ে পণ্য পারাপার তো দূরের কথা, অনেক ব্যবসায়ীকে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনাতেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। এতে সীমান্ত এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, রোবেলের বিরুদ্ধে চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলেও তার পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অতীতে চোরাচালানের পণ্য আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তার সংঘর্ষের ঘটনা এবং এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কারাভোগের কথাও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নলজুরি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাজিব রায় রোবেলকে তাদের বর্তমান ‘লাইনম্যান’ হিসেবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “রোবেল আমাদের কোনো লাইনম্যান নয়। সে আগে ছিল, এখন আমাদের কোনো লাইনম্যান নেই।”
এসআই রাজিব রায়ের এই বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—রোবেল যদি বর্তমানে পুলিশের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ‘লাইনম্যান’ না হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে কি না। একই সঙ্গে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত অভিযান না হওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের কোনো সদস্য বা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। তারা রোবেল, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য এবং চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য প্রবেশ, চাঁদাবাজি এবং কথিত সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
কথিত লাইনম্যান রুবেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে জাফলং জিরোপয়েন্টে পুলিশের নামে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোন কথা না বলে লাইনটি কেটে দেন|