
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের খাদিমনগর এলাকায় সরকারি খাস জমি ও চা বাগানের ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা, অভিযান ও জরিমানা আদায়ের পরও থামছে না কথিত দখলবাণিজ্য। বরং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে অভিযুক্ত চক্রটি।
সিলেট সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমানে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপরান থানাধীন বহর ও খাদিমনগর মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকায় এ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বহর ও খাদিমনগর মৌজার জে এল নম্বর ৭০ ও ৭১-এর বিভিন্ন স্থানে সরকারি খাস জমি, চা বাগানের লিজকৃত ভূমি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত প্লট দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে সংগঠিত লোকজন ব্যবহার করে এসব জমি দখলের চেষ্টা করছে। শুধু জমি দখলই নয়, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কথিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ও টিলা কাটা, বনাঞ্চল উজাড় এবং খাল, ছড়া ও নালা ভরাটের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১৯৫৬ সালের ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী এলাকার কিছু জমি খাদিম চা বাগানের আওতাভুক্ত এবং সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থে এসব ভূমির কিছু অংশে বসতি ও আবাসিক স্থাপনা গড়ে তুলে দখল পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে।
এ ঘটনায় বহর কলোনীর কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগে আইয়ুব আলী, উছমান আলী, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মানিক মিয়া, আনোয়ার হোসেন, সুজন, আমিনুর রহমান, আক্কাস আলী, কয়েছ মিয়া, করিম হাজারী, রাসনা মামুন ও হাফিজ ইসহাক উদ্দীনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, সরকারি খাস জমি ও পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি দখল অব্যাহত থাকলে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়-টিলা কাটা ও জলাধার ভরাটের কারণে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সরকারি জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—বারবার অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার পরও যদি দখল কার্যক্রম বন্ধ না হয়, তাহলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে?