• ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

খাসজমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, অনুমোদন নিয়ে বড় প্রশ্ন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
খাসজমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, অনুমোদন নিয়ে বড় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর শাহপরান থানাধীন বহর এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে অনুমোদনহীনভাবে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ও অ্যালুমিনিয়াম বাসন তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমির ওপর দেয়াল ও টিনশেড স্থাপনা তৈরি করে এসব কারখানার কার্যক্রম চালানো হলেও কার্যকর কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বহর মৌজা ও খাদিমনগর মৌজার অন্তর্ভুক্ত ১৪২ ও ১১৪২ নম্বর দাগের সরকারি খাসজমির বিভিন্ন অংশে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে কয়েকটি স্থাপনায় অ্যালুমিনিয়াম বাসন তৈরির কার্যক্রম চলছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোনো কোনো স্থাপনায় ‘বিসিক শিল্পনগরী’ লেখা সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট জমি বা স্থাপনা শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য যথাযথভাবে অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমির ওপর কারখানা স্থাপন এবং শিল্প কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগের কেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী আমির, আব্দুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী এবং তার ছেলে হুমায়ুন আহমেদ, হুমায়ূন গনীসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে অ্যালুমিনিয়াম বাসন তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলার ফলে শব্দ, ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে কারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং অগ্নিনিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের অভিযোগ, সরকারি খাসজমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও দৃশ্যমান সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে এসব স্থাপনার পরিধি বাড়ছে। ফলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন—এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে সরকারি জমির প্রকৃত মালিকানা, দাগ ও খতিয়ান, স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন, শিল্পকারখানার লাইসেন্স, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং ‘বিসিক শিল্পনগরী’ পরিচয়ে সাইনবোর্ড ব্যবহারের বৈধতা—সবকিছু যাচাই করে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধ স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি খাসজমিতে যদি সত্যিই অনুমোদনহীন শিল্পকারখানা গড়ে উঠে থাকে, তাহলে বছরের পর বছর ধরে সেগুলো কীভাবে টিকে আছে? আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ভূমিকা কী ছিল—তা তদন্তের দাবি রাখে।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাসজমিতে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, অনুমোদন নিয়ে বড় প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টে