• ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

জাফলংয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
জাফলংয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত সিলেটের জাফলংয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাউকি নদী ও এর তীরবর্তী এলাকায় নিষিদ্ধ ও পরিবেশবিধ্বংসী ‘সেইভ মেশিন’ ব্যবহার করে দিন-রাত বালু-পাথর উত্তোলন চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, জাফলং চা বাগান ও নয়া বস্তি এলাকার ব্লক বাঁধসংলগ্ন নদীতীরসহ বিভিন্ন স্থানে এসব যন্ত্র বসিয়ে নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী এলাকা থেকে বালু-পাথর তোলা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, তীরের স্থিতিশীলতা এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রশাসনের অভিযান ও নিষেধাজ্ঞার খবর থাকলেও বাস্তবে নিয়মিতভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং সুযোগ পেলেই সক্রিয় হয়ে উঠছে কথিত বালু-পাথর উত্তোলনকারী চক্র। রাতের বেলায় নদী ও তীরবর্তী এলাকায় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উত্তোলন চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাফলংয়ের ইসিএ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু-পাথর উত্তোলন নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ থাকলেও কার্যকর নজরদারি ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে একদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকছে, অন্যদিকে একই এলাকায় অবৈধ উত্তোলনের অভিযোগও অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় কথিত সিন্ডিকেট এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশাসনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, ইসিএ এলাকায় নদীর তলদেশ থেকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু-পাথর উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও প্রতিবেশব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে জাফলংয়ের পাথর, নদী ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, অবৈধ উত্তোলনের উৎস, যন্ত্রের মালিকানা, অর্থের লেনদেন এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—তা চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন, ইসিএ ঘোষিত এলাকায় আদালতের নির্দেশনা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও যদি পরিবেশবিধ্বংসী যন্ত্র দিয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ কোথায়?

জাফলংয়ের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাফলংয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন

বিস্তারিত কমেন্টে