• ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

সচেতনতামূলক সভার পরও থামেনি বালু লুট, রাংপানিতে নদীর পাড় কেটে চলছে অভিরাম উত্তোলন

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত নভেম্বর ৭, ২০২৬
সচেতনতামূলক সভার পরও থামেনি বালু লুট, রাংপানিতে নদীর পাড় কেটে চলছে অভিরাম উত্তোলন

সাহেদুর রহমান, জৈন্তাপুর : সিলেটের জৈন্তাপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও থামেনি নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন। বরং সভার পরও অনেকটা প্রকাশ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে পরিবেশবিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড। এতে হুমকির মুখে পড়েছে রাংপানি নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ও নদীতীরবর্তী পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী ঝিঙ্গাবাড়ী এলাকার রাংপানি নদীর শংকরঘাট অংশে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ৪ নম্বর বাংলাবাজার বালু-পাথর বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আহমদ আলী জানান, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি চান, প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাংপানি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও প্রভাবশালী মহলের কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলেও অভিযান-পরবর্তী সময়ে আবারও শুরু হয় বালু উত্তোলন। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বিএনপির কিছু নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিন-রাত নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও কার্যকর কোনো প্রতিবাদ বা উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন অন্যদিকে শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্প (বিওপি) থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পাড় কেটে কিংবা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে তারা সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচেতনামূলক সভা, প্রশাসনিক অভিযান ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির পরও যদি নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়, তাহলে এসবু উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। রাংপানি নদী ও পরিবেশ রক্ষায় শুধু অভিযান নয়, অবৈধ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

০৭ নভেম্বর ২০২৬

সচেতনতামূলক সভার পরও থামেনি বালু লুট, রাংপানিতে নদীর পাড় কেটে চলছে অভিরাম উত্তোলন

বিস্তারিত কমেন্টে