• ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

টাকার গায়ে পিনের আঘাত: রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের এই অপরাধ কবে থামবে?

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত নভেম্বর ১, ২০২৬
টাকার গায়ে পিনের আঘাত: রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের এই অপরাধ কবে থামবে?

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ​হাতে ধরা ১০০০ টাকার নোটটির দিকে তাকান। স্ট্যাপলার পিনের নিষ্ঠুর খোঁচায় নোটটিতে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত, যা একে প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলেছে। অথচ একটু সচেতন হলেই কিন্তু এই অপচয় রোধ করা সম্ভব!  অন্য দেশ পারলে আমরা কেন পারি না? চীন বা উন্নত বিশ্বে পেপার ব্যান্ডিং বা আধুনিক পদ্ধতিতে টাকার বান্ডিল করা হয়, ফলে নোটগুলো বছরের পর বছর অক্ষত থাকে। অথচ আমাদের দেশে ক্যাশ বান্ডিল করতে নির্বিচারে ব্যবহার করা হয় মেটালিক পিন বা স্ট্যাপলার।
​

ক্ষতির শিকার হচ্ছে রাষ্ট্র ও জনগণ: ​নোটের অকাল মৃত্যু: পিনের খোঁচায় সামান্য টানেই নোট ছিঁড়ে যায়, ফলে স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই তা নষ্ট হয়ে যায়।
​শত শত কোটি টাকার অপচয়: পিন ও নানা কারণে নষ্ট হওয়া নোটগুলো বাদ দিয়ে নতুন নোট বাজারে ছাড়তে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ও মুদ্রণ ব্যয় বিশ্লেષণে দেখা যায়, কেবল নোটের অকাল নষ্ট হওয়ার ফলে নতুন নোট ছাপাতে ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়ে থাকে! এই বিশাল অঙ্কের টাকার পুরো চাপটি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমাদের সাধারণ জনগণের ওপরই এসে পড়ে।
​

সময় এসেছে রুখে দাঁড়ানোর! টাকার গায়ে পিন মারার এই আত্মঘাতী সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কঠোর নজরদারি এবং আমাদের সবার সচেতনতাই পারে রাষ্ট্রীয় এই অপচয় রোধ করতে।  ​টাকা আমাদের জাতীয় সম্পদ, এর গায়ে পিনের আঘাত আর নয়!

০১ নভেম্বর ২০২৬

টাকার গায়ে পিনের আঘাত: রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের এই অপরাধ কবে থামবে?

বিস্তারিত কমেন্টে