
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ-২০২৬-এর চূড়ান্ত ফলাফলে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া গ্রামের শাহজাহান আহমদ। সিলেট জেলা থেকে নির্বাচিত ৪৮ জনের তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। কনস্টেবল পদে কর্মরত অবস্থায় নিজ প্রচেষ্টা, অধ্যবসায় ও যোগ্যতার মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি।
শাহজাহান আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের আমুড়া গ্রামের মরহুম ছালেহ আহমদের একমাত্র ছেলে। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এএসআই পদে উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেন তিনি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে একই বছরের ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন শাহজাহান। কর্মজীবনের শুরুতে মৌলভীবাজার জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় কর্মরত ছিলেন।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সিলেট জেলার প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। গত ২১ থেকে ২৩ জুন অনুষ্ঠিত শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সব ধাপ উত্তীর্ণ হন। এরপর ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিখিত ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেট রেঞ্জ অফিসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
নিয়োগপ্রক্রিয়ার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ৩ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন শাহজাহান আহমদ। সিলেট জেলা থেকে নির্বাচিত ৪৮ জনের মধ্যে তাঁর নাম থাকায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শাহজাহান আহমদ বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস, দোয়া, কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি তাঁর মরহুম বাবাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের দোয়া, ত্যাগ ও ভালোবাসা তাঁকে এ পর্যায়ে আসতে সহযোগিতা করেছে। নিজের এ সাফল্যের জন্য তিনি গ্রামের সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব পালন করে দেশ ও মানুষের সেবা করতে চান। একই সঙ্গে হালাল উপার্জন, ন্যায়নিষ্ঠা ও সততার পথে জীবন পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কনস্টেবল পদে কর্মজীবন শুরু করে প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এএসআই পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার এ অর্জন তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাঁর এ সাফল্যে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।