
নাবেল আহমদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীতে সরকারি ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নদী ভাঙনের আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১লা অক্টোবর উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ চরে বালু উত্তোলন করতে গেলে ইজারাদারের লোকজন এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়েন। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বালু উত্তোলন ঠেকাতে নৌকা নিয়ে নদীতে টহল দিতে দেখা যায় স্থানীয়দের।
জানা গেছে, দক্ষিণভাগ চরটি ইজারা নিয়েছেন জুবের আহমদ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, ইজারাকৃত নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের বাড়িঘর, জমি, রাস্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে শেওলা-দীঘলবাগ এলাকার বাসিন্দা মিজু আহমদ বলেন, নদীতে বিলীন হচ্ছে আমাদের বসতভিটা। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন করেছি। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে রাত জেগে পাহারা দেব।
তবে ইজারাদার জুবের আহমদের দাবি, তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং প্রশাসনের চিহ্নিত করা স্থান থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। তাকে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। নদীভাঙনে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে যাতে আগামীতে এই এলাকা ইজারা না দেওয়া হয়। বর্তমান ইজারাদারকে নদীর ৪০ ফুটের বাইরে থেকে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করায় ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইজারাদাররা নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করছেন বলে দাবি করলেও তাতে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। এ নিয়ে এলাকায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।