• ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

গনকিরপাড়ে মাদকের থাবা: তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, যুবসমাজ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত নভেম্বর ৬, ২০২৬
গনকিরপাড়ে মাদকের থাবা: তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, যুবসমাজ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের গনকিরপাড় এলাকায় এক প্রভাবশালী মাদক কারবারির সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয় যুবসমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের এই মরণনেশায় জড়িয়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, তাজুল ইসলামের এই অপতৎপরতার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবন এখন গভীর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাজুল ইসলাম নিজে আড়ালে থেকে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের তরুণ-যুবকদের টাকার লোভ দেখিয়ে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে, অন্যদিকে আইনি ঝুঁকিতে পড়ছে নিরীহ পরিবারগুলো।

সম্প্রতি বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) একটি অভিযানে মাদকসহ দুই যুবককে আটক করার পর এই মাদক সিন্ডিকেটের বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসে। আটককৃত যুবকদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মাদক চালানের প্রকৃত মালিক তাজুল ইসলাম—এমন তথ্যই গনকিরপাড়ের মানুষের মুখে মুখে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজের এই অবৈধ মাদক ব্যবসাকে আড়াল করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তাজুল ইসলাম বর্তমানে রাজনৈতিক ঢাল ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং দলে ভালো কোনো পদ-পদবী বাগিয়ে নেওয়ার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাজনৈতিক তকমা পেয়ে গেলে তার এই মাদক সাম্রাজ্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

গনকিরপাড় এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বারবার অভিযান পরিচালনা করার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলটি মাদক চোরাচালানের একটি অন্যতম রুট বা ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—বারবার চুনারুঘাটের নির্দিষ্ট এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুনোপুঁটি বা বহনকারীদের ধরা হলেও, মাদকের মূল হোতারা কেন অধরাই থেকে যাচ্ছে? এসব অভিযানের মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিছু মাদক জব্দ করা সম্ভব হলেও, মূল সরবরাহকারী বা তাজুলের মতো গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না। বাহক আটকের পাশাপাশি মূল হোতাদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এলাকার সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের কাছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—প্রশাসন যেন অতি দ্রুত এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং একটি মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

০৬ নভেম্বর ২০২৬

গনকিরপাড়ে মাদকের থাবা: তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, যুবসমাজ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

বিস্তারিত কমেন্টে