
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর এলাকায় পুলিশের অভিযানে ভারতীয় চোরাই পণ্যবাহী একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় গাড়ির চালক ইকরামুল হক রানাকে আটক করা হলেও তার সহযোগী হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সালুটিকর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে একটি সন্দেহভাজন মালবাহী গাড়িকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গাড়ির হেলপার কৌশলে পালিয়ে গেলেও চালক ইকরামুল হক রানাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জব্দকৃত গাড়ি থেকে ভারতীয় চকলেটসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মালামালের বস্তা ও কার্টনগুলো সম্পূর্ণ খোলা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত পণ্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ ও বাজারমূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সালুটিকর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সঞ্জিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চালক উদ্ধার হওয়া মালামালের মালিক হিসেবে শামসুদ্দিন কালা ওরফে ‘শ্যাম কালা’র নাম উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, “চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। উদ্ধারকৃত মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করলে অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক হেলপারকে গ্রেপ্তার এবং চোরাই পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।