
তানিম আহমদ,গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:সিলেটের গোলাপগঞ্জে একের পর এক চুরি’র ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ৫টি চুরি মামলা দায়ের হয়েছে থানায়। মামলা দায়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।
গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরি’র একাধিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেক বাসিন্দা।
ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শিপন আহমদ বলেন, শুধু বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হবে না। এসব ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, চুরি হওয়া মালামাল কোথায় যাচ্ছে এবং বারবার একই ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে-এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, চুরি’র ঘটনা ঘটার পর মামলা ও গ্রেফতার হলেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহভাজন চক্রগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চুরি সংক্রান্ত ৫টি মামলা এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ছবেদ আলী বলেন, চুরি’র মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুরি’র ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রেফতার অভিযান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে এর পাশাপাশি চুরি সঙ্গে জড়িত সক্রিয় চক্র, তাদের সহযোগী এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা জরুরি। তাদের দাবি, রাতের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহ আলম বলেন আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা গুলো এখন দিনের বেলা ও হচ্ছে আমার রাতে ১০ টি টহল পার্টি ও দিনে ২ টি টহল পার্টি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি খুব শীঘ্রই আমরা এই চুরি ও ডাকাতির মত ঘটনা গুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। গোলাপগঞ্জে সাম্প্রতিক চুরি’র ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।