• ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

লাল শাপলার হাওরে এখন কচুরিপানার রাজত্ব হারিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য!

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
লাল শাপলার হাওরে এখন কচুরিপানার রাজত্ব হারিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য!

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:  সীমান্তঘেঁষা সিলেটের জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর—একসময় যার নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে উঠত লাল শাপলায় ছাওয়া বিস্তীর্ণ জলরাশি। শীতের সকালে পানির বুকে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসতেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্যপট। দীর্ঘদিনের অযত্ন, নিয়মিত পরিচর্যার অভাব ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় হাওরের বড় একটি অংশ ক্রমেই কচুরিপানায় ঢেকে যাচ্ছে। যে জলরাশিতে একসময় লাল শাপলার আধিপত্য ছিল, সেখানে এখন দূর থেকে চোখে পড়ে সবুজ কচুরিপানার বিস্তার।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বছর শীত মৌসুমে ডিবির হাওরে লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের আগমন বাড়লেও বর্তমানে হাওরের বিভিন্ন অংশ কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ায় আগের সেই আকর্ষণ অনেকটাই কমে গেছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডিবির হাওরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নৌকা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চা-নাশতার দোকানি ও বিভিন্ন শ্রেণির স্থানীয় মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে। পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে এসব মানুষের আয়ও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে হাওরটির পরিবেশগত গুরুত্বের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থেও এর সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কচুরিপানা অপসারণ করে হাওরের স্বাভাবিক জলজ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, ডিবির হাওরের লাল শাপলা শুধু জৈন্তাপুরের সৌন্দর্যের অংশ নয়; এটি সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার একটি স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক আকর্ষণ। তাই সাময়িক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ডিবির হাওরের বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করে কচুরিপানা অপসারণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করবে। তা না হলে একসময় লাল শাপলার সেই অপরূপ রাজত্ব হারিয়ে যেতে পারে। তখন আগামী প্রজন্মের কাছে ডিবির হাওরের সৌন্দর্য হয়তো বাস্তবের দৃশ্য নয়, শুধু ছবি ও গল্পের স্মৃতি হয়ে থাকবে। প্রকৃতি ও পর্যটন—দুইয়ের সমন্বিত স্বার্থেই এখন প্রয়োজন ডিবির হাওর রক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাল শাপলার হাওরে এখন কচুরিপানার রাজত্ব হারিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য!

বিস্তারিত কমেন্টে