
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ঝুলনযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে বড়বাজার মণিপুরী পাড়ায় ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার এ উপলক্ষে বড়বাজার মণিপুরী পাড়ার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। পরে ঐতিহ্যবাহী ঝুলন নৃত্য ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঝুলনযাত্রার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা কয়েকজনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ঝুলন নৃত্যের মৃদঙ্গ বাদক শ্রী সায়ন সিংহকে তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ঝুলনযাত্রার নৃত্যের সূত্রধারী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় উর্মিলা শর্ম্মা (বেমা), ভারতী দেবী (পুতুলী) ও ইতিমনি দেবীকে শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে উত্তরীয়, ওড়না (ইনাফি) ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এছাড়া ঝুলনযাত্রার নৃত্যের তালে ও গানের সুরে হারমোনিয়াম বাজিয়ে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দময় করে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রী সিদ্বার্থ সিংহকে উত্তরীয় প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র সিংহ, কমিটির সদস্য শ্রী উপেন্দ্র সিংহ ও শমীন সিংহ, মন্দিরের পুরোহিত শ্রী নরোত্তম শর্ম্মা এবং মন্দিরের মহিলা পরিচালক ও গায়িকা শ্রীমতি জয়মতি দেবী প্রমুখ।
আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি ঝুলন নৃত্যের সকল সখি ও গোপিদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন ও আবেগময় পরিবেশে পরিণত হয়। বক্তারা ঝুলনযাত্রার ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনা ও সম্মাননা পর্ব শেষে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ঝুলনযাত্রার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। মৃদঙ্গের তালে, গানের সুরে এবং সখি-গোপিদের নৃত্যে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রাতভর চলে ঝুলনযাত্রার নৃত্য ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা।
সবশেষে ভোরবেলায় শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণের যুগল আরতি অনুষ্ঠিত হয়। আরতি শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে ঝুলনযাত্রা মহোৎসব ২০২৬-এর। আয়োজকদের মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মণিপুরী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ঝুলন নৃত্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে।