
জাকারিয়া তালুকদার:: হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত আধ্যাত্মিক নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেট। সেই নগরীর সুরমা মার্কেটস্থ নিউ সুরমা আবাসিক হোটেল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি, পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন হোটেলটিকে কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আব্বাস ওরফে ‘ইয়াবা আব্বাস’ নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কথিত এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটে এনে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পথচারী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কেট ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কোর্ট মসজিদে নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা গন্তব্যে যাওয়ার সময় হোটেলকেন্দ্রিক কিছু ব্যক্তি তাদের কাছে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসেন। এতে পবিত্র ধর্মীয় পরিবেশ ও নগরীর সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, নগরীর যেসব আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বন্ধ বা সিলগালা করা হয়েছে। অথচ নিউ সুরমা আবাসিক হোটেলকে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো নারী যেন প্রতারণার শিকার না হন কিংবা জোরপূর্বক যৌন শোষণের শিকার না হন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সিলেট নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। নিউ সুরমা আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ‘আব্বাস ওরফে ইয়াবা আব্বাস’-এর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।