• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন: অন্যত্র অভিযান, বালির হাওরে’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন!

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন: অন্যত্র অভিযান, বালির হাওরে’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন!

এ কে আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন নদী ও বালুমহালে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। নিয়মিত অভিযানে পরগণা বাজার ব্রিজসংলগ্ন এলাকা, নতুন ভাঙা হাওর ও বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস এবং জরিমানা করা হচ্ছে।

তবে একই উপজেলার পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘বালির হাওর’ এলাকায় অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও সেখানে প্রশাসনের দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালির হাওরসংলগ্ন নদী ও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছে। দিন-রাত সমানতালে ড্রেজার ও অন্যান্য যন্ত্রের মাধ্যমে বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী এলাকা, কৃষিজমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে ইতোমধ্যে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এমনকি স্থানীয় স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসাও নদীভাঙনের কবলে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। নিজেদের জমি ও স্থাপনা রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালির হাওরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন থেকে জমি ও জনবসতি রক্ষার দাবিতেই এসব মানববন্ধন করা হয়েছে। কিন্তু মানববন্ধন ও অভিযোগের পরও বালির হাওর এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও নিয়মিত অভিযান চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে উপজেলার অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলেও বালির হাওর এলাকায় কেন একই ধরনের অভিযান দৃশ্যমান নয় এ প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছুদিন পরপর অভিযান পরিচালিত হলেও বালির হাওর নদী ও সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযানের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গোয়াইনঘাট উপজেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সমানভাবে পরিচালনা করা হোক। বিশেষ করে বালির হাওরের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী ও হাওর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি নদীভাঙনের কারণে জনবসতি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অবৈধ উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও রতন কুমার অধিকারীর মুঠোফোন কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি৷ পরে উপজেলা  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: জাকারিয়া হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আপনি তো মাত্র বালির হাওরের বিষয়ে অভিযোগ দিলেন। এর আগে কি কখনো অভিযোগ দিয়েছিলেন? তিনি আরও বলেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। একই সঙ্গে তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, বালির হাওরে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এর আগেও একাধিকবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে নদীভাঙনের কারণে জমি, রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একাধিকবার মানববন্ধন ও অভিযোগের পরও কেন বালির হাওর এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অভিযান দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা দ্রুত বালির হাওর এলাকায় সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন: অন্যত্র অভিযান, বালির হাওরে’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন!

বিস্তারিত কমেন্টে