• ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

মাদকবিরোধী অবস্থানের পর ইয়াবাসহ আটক: মাওলানা সাদুকে ঘিরে বারহালে তোলপাড়

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মাদকবিরোধী অবস্থানের পর ইয়াবাসহ আটক: মাওলানা সাদুকে ঘিরে বারহালে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত মাওলানা মো. আসাদুর রহমান ওরফে সাদুকে ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্র দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক সম্ভাবনা নষ্ট করতে মাদক কারবারিদের একটি চক্র বিজিবির কিছু সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করে তাঁকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিজিবির বক্তব্য ও মামলার নথি যাচাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে জেবুল, বদি ও আরও কয়েকজনের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে মাওলানা আসাদুর রহমান সাদু বারহাল এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে সভা-সমাবেশ ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়দের একটি অংশ তাঁকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তাঁরা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী তৎপরতার কারণে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তাঁদের আশঙ্কা, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর সিলেটের বিয়ানীবাজারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে মাওলানা মো. আসাদুর রহমান ওরফে সাদু (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে ৮৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকের তথ্য প্রকাশিত হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি ট্রাক্টর ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে বিজিবির বরাতে জানানো হয়।
বিজিবির দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ হাজার ১০০ টাকা। জব্দ করা ট্রাক্টরের আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ টাকা এবং মোবাইল ফোনের মূল্য ১২ হাজার টাকা।

তবে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, ইয়াবা উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং জব্দ করা সামগ্রীর সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা—এসব বিষয় আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও মামলার নথির ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। শুধু আটকের ঘটনা দিয়ে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের বক্তব্য ও বিজিবির অভিযানের তথ্যের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে, অভিযানের আগে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, অভিযানের সাক্ষী কারা ছিলেন এবং জব্দতালিকা ও মামলার নথিতে কী উল্লেখ রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

পাশাপাশি স্থানীয়দের উত্থাপিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। অর্থের বিনিময়ে কোনো সদস্যকে প্রভাবিত করার অভিযোগ সত্য হলে তা গুরুতর; । তাই অভিযোগকারীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে ইয়াবা উদ্ধারের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

এখন মূল প্রশ্ন—মাওলানা আসাদুর রহমান সাদুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, আর তাঁকে ফাঁসানোর যে অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশ তুলেছেন, তার পক্ষে কী তথ্য-প্রমাণ আছে? নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমেই এর উত্তর পাওয়া সম্ভব।

২৬ অক্টোবর ২০২৬

মাদকবিরোধী অবস্থানের পর ইয়াবাসহ আটক: মাওলানা সাদুকে ঘিরে বারহালে তোলপাড়

বিস্তারিত কমেন্টে