
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুরমা নদী থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, কিছু স্থানে নির্ধারিত ইজারা এলাকার বাইরে থেকেও বালু তোলা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গোলাপগঞ্জের সুরমা নদীর স্বরসতিসহ কয়েকটি এলাকায় গভীর রাতে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। রাত ১২টার পর শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত কার্যক্রম চলে বলেও তাঁদের অভিযোগ। পরে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে বালু মজুত করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মুশিকুর রহমান মুহি, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর জামিল চৌধুরী এবং স্থানীয় নেতা সুফিয়ানের নাম উল্লেখ করেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কুশিঘাট, শ্রীরামপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সামনের অংশ, মুরাদপুর ও নলুয়াসহ কয়েকটি এলাকায় উত্তোলিত বালু মজুত ও সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব বালু মজুত ও সরবরাহকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে বলেও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন। এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সুরমা নদীর ইজারাবহির্ভূত এলাকা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি করা হোক। রাতের বেলায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।