• ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

গোয়াইনঘাটে বালু-পাথর উত্তোলন ও চোরাচালানের অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের তদন্তের দাবি

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
গোয়াইনঘাটে বালু-পাথর উত্তোলন ও চোরাচালানের অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,গোয়াইনঘাট : সিলেটের গোয়াইনঘাটে লিজবিহীনভাবে বালু-পাথর উত্তোলন এবং ভারত থেকে অবৈধ পথে বিভিন্ন পণ্য আমদানির অভিযোগ তুলে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং চট্ট-২১৫৯)। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, গোয়াইনঘাটের রুস্তমপুর ইউনিয়নের পীরেরবাজার এলাকায় একটি দোকানঘরকে কেন্দ্র করে ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা গরু-মহিষ, চিনি, জিরা, কসমেটিকসামগ্রী ও মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের একটি সিন্ডিকেট হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, বিছনাকান্দি এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘মেসার্স ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকা ইজারা নিলেও পান্তুমাই ও মাতুরতল এলাকা থেকে বালু-পাথর উত্তোলন এবং রশিদের মাধ্যমে রয়্যালটি আদায় করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ দাবির সমর্থনে রশিদের কপি সংযুক্ত করার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া গোয়াইনঘাট থানার এসআই রায়হানের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অবৈধ পণ্য থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারী সংগঠনটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী ও ব্যক্তির নাম আসায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিম গোয়াইনঘাট ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সালুটিকর কার্যালয়ের সভাপতি জমসিদ আলী (কালা), সাধারণ সম্পাদক মো. আজির উদ্দিন ও সহ-সম্পাদক নাইম আহমদ বলেন, “উপজেলা কমিটি এ অভিযোগের বিষয়ে অবগত নয়। স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে এর সঙ্গে আমাদের কমিটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো বিষয় আমরা কখনো দেখিনি। আমরা জেলা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানব এবং তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখব।”

এ বিষয়ে সিলেট সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আবু সরকার অভিযোগের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ভারত থেকে আসা চোরাই পন্য এবং অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ করার জন্য আমরা সিলেট পুলিশ সুপার ও ডিআইজি বরাবরে অভিযোগ দিয়েছি। অভিযুক্ত এসআই রায়হান এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিটা অফিসার এ বিষয়ে জড়িত এজন্য তাকে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন সহ চাঁদা আদায় করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে আবু সরকার বলেন, আমাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে। প্রতি রাতে ৭০-৮০টি পাথর বুজাই গাড়ি এবং ভারত থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের চোরাই পন্য যায় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রুস্তমপুর ইউনিয়নের সহকারি বিট অফিসার রায়হানের সাথে অভিযুক্তদের পরিচয় বা সম্পৃক্ততাও নেই। এসআই রায়হানকে জড়িয়ে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে অভিযোগটির পক্ষে কোনো স্বাধীন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে নাম আসা বৃহত্তর রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রসংসদের সভাপতি আব্দুল কাদির রাফি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমি ও আমাদের এলাকার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে আমাদের সামাজিকভাবে মানহানি হচ্ছে। এর জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”

বৃহত্তর রুস্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, অভিযোগে উল্লেখিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা চোরাচালান বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। এলাকাবাসী হিসেবে আমরা এমন কোনো কর্মকাণ্ড তাদের করতে দেখিনি বা শুনিনি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দেখা উচিত।”

অভিযোগে উত্থাপিত বালু-পাথর উত্তোলন, চোরাচালান এবং প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের বিষয়গুলো সত্য কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোয়াইনঘাটে বালু-পাথর উত্তোলন ও চোরাচালানের অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের তদন্তের দাবি

বিস্তারিত কমেন্টে