
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকে ঘিরে হামলা ও মাধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে| এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে| পরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে| শনিবার দুপুরে নগরের তালতলা এলাকায় হাসপাতাল ভবনে এমন ঘটনা ঘটে| জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবি কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে নামেন হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা| হাসপাতালের ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা|
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি| দুপুরের দিকে হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী| কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এসময় আন্দোলনকারী শ্রমিকদের কয়েকজন ইমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে ভুয়া ভুয়া স্লোগানসহ বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দেন| এরপর থেকে হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়| প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভুয়া ভুয়া স্লোগানের পর হাসপাতালের সেমিনার হলে স্লোগানদাতা সন্দেহে কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়| এসময় স্লোগানদাতা অভিযোগে এক কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে| তার হাতে হ্যান্ডকাপও পড়ানো হয়| এরপর ওই কর্মচারী ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পা ধরে ক্ষমা চান| কর্মচারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন ক্ষমা চাচ্ছিলেন তখন তাকে বহিরাগত কয়েকজন মারধর করে| তিনি কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর লিফটের সামনে আরেকদফা মারধর করা হয়| মারধরকারীরা বিএনপির নেতাকর্মী বলে অভিযোগ তাদের|
এ ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়| এসময় কর্মচারী ও বহিরাগত দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে| আহমদ আল জুবের নামে পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শাখার এক কর্মচারী জানান, স্লোগান দেওয়ার কারণে আমরা ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি| এরপর আমাদের উপর হামলা চালানো হয়| এতে আমাদের ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন| আরেক কর্মচারী বলেন, আমি ১৭ বছর বিএনপি করেছি| আজ বিএনপির লোকজনই আমার উপর হামলা চালিয়েছে| আমাদের মারধর করেছে| স্লোগান দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছি| তারপরও আমাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে প্রায় দুই ঘন্টা হাসপাতালে আটকা পড়েন ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ নেতারা|
বিকেলে তিনি বেরিয়ে আসার সময় আবার আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়| এসময়ও দুইপক্ষে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে| এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বহিরাগত কয়েকজন মারধর করেছে বলে শুনেছি| তবে এতে বিএনপির কেউ জড়িত নয়| আমি বিষয়টি সমাধান করে এসেছি| কর্মচারীরাও আন্দোলন স্থগিত করেছে| তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়, আমাকে উদ্দেশ্য করে নয়|
পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে জানিয়ে, কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ ন্ধ রেখে আন্দোলন করছিল| এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে| বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে| এদিকে, আন্দোলনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেতন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে|