
বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, স্বামী-স্ত্রীকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ সময় বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বড়লেখা উপজেলার মহুবন্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী রাবিয়া বেগমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা নিয়ে তাঁর স্বামী জুবের আহমদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন তাঁর স্বামী বসতঘরের নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা জুবের আহমদকে মাথা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বাম চোখ লক্ষ্য করে আঘাত করা হয় এবং মুখমণ্ডলের দুই গালেও জখম করা হয় বলে দাবি করেন বাদী।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রাবিয়া বেগমের কপালেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রাণভয়ে তাঁরা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
এ ছাড়া গরুর ব্যবসার কাজে ব্যবহারের জন্য জমি বিক্রির টাকা থেকে নগদ অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা টাকার পরিমাণের বিষয়ে নথির ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায় তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ঘটনায় রাবিয়া বেগম বড়লেখার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে বাবু আহমদ, জাকির আহমদ, ছানারা বেগম ও বিউটি বেগমসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের পর আদালত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ৪২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।