• ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

বিছনাকান্দি সীমান্তে যুবককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে!

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৬
বিছনাকান্দি সীমান্তে যুবককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে!

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তের মুসলিমপাড়া এলাকায় এক যুবককে লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত যুবকের নাম আল আমীন (২৪)। তিনি বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ঝারিখালকান্দি গ্রামের মৃত সফি উল্লাহর ছেলে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া মুসলিমপাড়া এলাকায় রাজিবের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন আল আমীনকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের গেটের সামনে স্লোগান দিয়েছেন,এক পর্যায়ে স্থানীয় গণমান ব্যক্তিবর্গ আসলে তাদের কথা শুনে আলামিন কে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আল আমীন রাজিবের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিছনাকান্দি বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) দুই বিজিবি সদস্য রুজ্জেল ও হারুন আহমেদ সেখানে গিয়ে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে আল আমীন মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা মারধরের কারণ জানতে চাইলে ওই দুই বিজিবি সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলটি সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সেখানে একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যুবককে এভাবে মারধর করা আইনসঙ্গত নয়।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিছনাকান্দি বিওপিতে রুজ্জেল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, কয়েক দিন আগে দুই শ্রমিককে মারধর করে আহত করা এবং সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ির সামনে রাস্তায় থাকা মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

তাঁরা বলেন, কেউ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে আটক করে আইনের আওতায় নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কাউকে মারধর করে আহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা এ ঘটনায় বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আহত আল আমীনের ছোট ভাই রোহুল আমীন বলেন, মুসলিমপাড়ার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাইকে বিজিবি সদস্যরা মারধর করে অচেতন করে ফেলেন। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিছনাকান্দি বিওপির দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্য হারুন আহমেদ। তিনি বলেন, বিছনাকান্দি পর্যটনকেন্দ্রের পাশ থেকে ভারতীয় জিরাভর্তি একটি নৌকা আটক করা হয়েছিল। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ফেরার সময় বিজিবি সদস্যদের গতিরোধ করে চিৎকার-চেঁচামেচি ও ধর-মার করার কথা বলতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলে অনেক লোক জড়ো হয়।

হারুন আহমেদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের ধাওয়া করা হলে তাঁরা দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যান। এ সময় একজনের হাঁটুতে আঘাত লাগে। আমরা পরে সেখান থেকে চলে আসি। বিছনাকান্দি বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দীন বলেন, বিছনাকান্দি পর্যটনকেন্দ্র থেকে ২৫ থেকে ৩০ বস্তা ভারতীয় জিরা আটক করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত শ্রমিকেরা হইচই শুরু করলে বিজিবি সদস্যরা নৌকায় করে জব্দ করা জিরা নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, ভিআইপি রুজ্জেল ও হারুন আহমেদ মোটরসাইকেলে করে মুসলিমপাড়া মসজিদের দিকের রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পে ফেরার সময় একটি দোকানের সামনে চোরাচালানের কাজে জড়িত শ্রমিকেরা তাঁদের গতিরোধ করেন। এ সময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।

ক্যাম্প কমান্ডার আরও বলেন, ঘটনার পর শতাধিক বহিরাগত শ্রমিক আহত ব্যক্তিকে নিয়ে মিছিল করে ক্যাম্পের সামনে আসেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে তাঁরা চলে যান। তাঁর দাবি, চোরাচালানের মালামাল আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, ভারতীয় জিরার নৌকা আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ‘মব’ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। বিজিবি সদস্যদের কাউকে আঘাত না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। কোনো অপরাধ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিজিবি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হয়ে কেন আমরা অন্য কাউকে মারধর করব? এ বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে।লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক অভিযোগটিকে সাজানো নাটক দাবি করে বলেন, বিজিবির সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

২৯ আগস্ট ২০২৬

বিছনাকান্দি সীমান্তে যুবককে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে!

বিস্তারিত কমেন্টে