
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ সাধারণ ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত, এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থী এবং জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদান রাখা এক পরিবেশকর্মীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২০ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় জামালগঞ্জে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল। উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারজেল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পীযুষ কান্তি মজুমদার।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. শফিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক-২ মো. আজিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. হাবিবুর রহমান, সমাজকর্মী আব্দুর রব, জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী, হাজী কালাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি আক্তার শিফা, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার, পরিবেশকর্মী মোছা. ইসমাতুন্নেছা চৌধুরী ও সিনিয়র সাংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ।
অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রদীপ কুমার রায় ও গিরীদারী পাল। সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৌলমী তালুকদার প্রাচী, সানজিদা ইসলাম নাওমী ও শুভ্র দ্বীপ রায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আইয়ুবুর রহমান শান্ত, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. শাহজাহান, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. ফখরুল আলম চৌধুরী, সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাকর মজুমদার, জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহীন আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান কৃতী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে উৎসাহের সঙ্গে তুলে ধরার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এটাই তোমাদের শেষ অর্জন নয়, বরং এই অর্জনের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের পথচলা শুরু হবে। তোমরাই একদিন ইউএনও, ডিসি, এডিসি হবে। তাই লক্ষ্য ঠিক রেখে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। খুব শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক বলেন, আজকের এই অর্জন শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। যারা আজ সম্মাননা পেয়েছে, তারা যেমন সফল হয়েছে, তেমনি যারা পায়নি তারাও এ অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে সম্মাননা পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৯১ জন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনকারী ২৮ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের জন্য পরিবেশকর্মী মোছা. ইসমাতুন্নেছা চৌধুরীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত পরিবেশকর্মী মোছা. ইসমাতুন্নেছা চৌধুরী এক হাজারের বেশি গাছ রোপণ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মানুষের উপকার ও স্বাবলম্বী হওয়ার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তিনি।