• ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: প্রধান আসামি ননদ চামেলী ঢাকায় গ্রেপ্তার

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: প্রধান আসামি ননদ চামেলী ঢাকায় গ্রেপ্তার

বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তাঁর ননদ চামেলীকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বড়লেখা থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।

মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর মা মোছা. রেনু বেগম বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় মুন্নির স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমেদের সঙ্গে মরিয়ম আক্তার মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মুন্নির স্বামী লাভলু আহমেদ বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হতো। পাশাপাশি পরিবারের বিভিন্ন ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হতো।

পরিবারের দাবি, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় মুন্নিকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মামলার এজাহারে নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার।

এর আগে গত ২১ আগস্ট বড়লেখার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মরিয়ম আক্তার মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মকবুল আলী প্রথমে বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মুন্নির মা রেনু বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ থাকার কথা বলা হয়েছে।

মুন্নির মৃত্যুর পর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর বড়লেখা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে মুন্নির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মামলা দায়েরের পর বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৃহবধূ মুন্নির আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা: প্রধান আসামি ননদ চামেলী ঢাকায় গ্রেপ্তার

বিস্তারিত কমেন্টে