
নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতাল। নাগরিক সমাজের আপত্তি উপেক্ষা করে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দায়িত্বশীলরা অনেকটা জোর করে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন এই হাসপাতাল। নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও এতোদিন এটি চালু করা যায়নি। প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো এ হাসপাতাল। অবশেষে নগরের চৌহাট্টা এলাকার এ হাসপাতালটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সিলেট সফরে এসে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘সিলেটে শীঘ্রই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। এছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ১২০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।’
রবিবার (৩১ মে) বিকেলে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে গত ২০ এপ্রিল সিলেট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তারও আগে এই হাসপাতাল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও এটি কেন নির্মিত হয়েছে কেউ জানে না। স্বাস্থ্যসংশ্লিস্ট কোন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা না করেই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আমি সংশ্লিস্টদের সাথে আলাপ করে এটি চালুর ব্যবস্থা করবো।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণসহ রংকরণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভবনে হাসপাতালের কোনো যন্ত্রপাতি আনা হয়নি।
জানা গেছে, হাসপাতাল ভবন নির্মাণ শেষ হলেও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা পরিচালনা করবে, সেটি এখনও নির্ধারণ হয়নি। হাসপাতাল হস্তান্তরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ না পাওয়ায় গণপূর্ত বিভাগ এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রঙের কাজ, ইলেক্ট্রিক, টাইলস, গ্লাস, দরজা, জানালা লাগানোও সম্পন্ন। হাসপাতাল ভবনের বেসমেন্টে রয়েছে কার পার্কিং; প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম; দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার; তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক; চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ; পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থোপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে। গত ২ মে সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুততম সময়ে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।