• ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ইমনকে পুলিশে দিল জনতা

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬
ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ইমনকে পুলিশে দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ভিসা প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা ইমন উদ্দিনকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে জামিন নিতে সিলেট আদালতে গেলে প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগী তাকে শনাক্ত করেন। পরে তারা ইমনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, সিলেট নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত এমেক্স এসোসিয়েটস নামে একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইমন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও কানাডায় পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, এমেক্স এসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠান এবং ইমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজানো ও ভুয়া ভিসা প্রাপ্তির ভিডিও প্রচার করে মানুষকে আকৃষ্ট করত। বিশেষ করে মাত্র ১ হাজার টাকায় ভিসা পাওয়ার নাটক সাজিয়ে কানাডার ভিসা এবং সহজ শর্তে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো। চক্রটি প্রায় ৭০০ জন তরুণ-যুবকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। এভাবে অন্তত ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতারণার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ১৯ মে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান ইমন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা। একই সঙ্গে তাদের পরিচালিত ফেসবুক পেজও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, ইমনের সহযোগী জাবের আহমদসহ চক্রের অন্য সদস্যরাও দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমদ বলেন, ‘এমেক্স এসোসিয়েটসের ইমন নামের একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে। অভিযোগের বাকি বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’