• ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ,

বড়লেখায় গৃহবধূর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

Daily Sonali Sylhet
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
বড়লেখায় গৃহবধূর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মুন্নির মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ঘটনার আগে পরিবারের কাছে পাঠানো ভিডিও ও খুদে বার্তা এবং মরদেহে আঘাতের চিহ্নের বিষয়গুলো সামনে আসায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তদন্তের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে বড়লেখা পৌরশহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মুন্নির মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি, অপমৃত্যুর মামলা গ্রহণ, বিভিন্ন আলামত থাকা মোবাইল ফোন উদ্ধার না করা এবং মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার পরও অভিযুক্তদের আটক না করায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে মুন্নির মৃত্যুর ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল গনির সভাপতিত্বে এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ ও সাবেক ছাত্রনেতা মুস্তাফিজুর রহমান রাজনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রবাসী সাংবাদিক নুরুল ওয়াহিদ, কমিউনিটি নেতা ও রাজনীতিবিদ আহমেদ রিয়াজ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবিদুর রহমান, ইউপি সদস্য ফখরুল আলম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ ললন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরমান আহমদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তব্য দেন নিহত মুন্নির বাবা মকবুল আলী, মা রেনু বেগম ও খালাতো ভাই মাছুম আহমদসহ অন্যান্য স্বজনরাও।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নির্যাতন করেন। এ বিষয়ে মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে তাঁর বাবা-মাকে বিষয়টি জানান বলে পরিবারের দাবি। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পরে এক মুরব্বি ফোন করে তাঁদের জানান যে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমে মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান বলে পরিবারের দাবি।

স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর মুন্নিকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন এবং পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে তাঁর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, মুন্নির মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সকালে বড়লেখা থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান। ওসি বলেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছেছে এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রতিবেদনে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনার আগে মুন্নির বাবার মুঠোফোনে পাঠানো ভিডিও কল ও খুদে বার্তার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে বলেও জানান তিনি। ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, মুন্নির বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত না হয়ে অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। এ ধরনের প্রচারণা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

মুন্নির মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ এবং পুলিশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার তথ্য সামনে আসায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্বজনরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বড়লেখায় গৃহবধূর মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

বিস্তারিত কমেন্টে