
বানিয়াচং প্রতিনিধি: সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতাকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে এলাকা সংস্কার ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একদল মানবিক যুবক। তরুণ সমাজসেবক এস এম তারেক-এর নেতৃত্বে এই যুবদলটি সম্প্রতি হবিগঞ্জ-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ মহাসড়কের সকল মাইলফলক পুনর্নির্মাণ ও এলাকার মসজিদ পরিচ্ছন্নতার মতো ব্যতিক্রমী কার্যক্রম পরিচালনা করে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। এস এম তারেক উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের অন্তর্গত বাসিয়াপাড়া মহল্লার নজরুল ইসলাম মিয়ার পুত্র।
গুরুত্বপূর্ণ হবিগঞ্জ-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধুলোবালি, শেওলা ও ময়লায় ঢেকে থাকা মাইলফলক বা কিলোমিটার পোস্টগুলো চালক ও পথচারীদের জন্য প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছিল। এর ফলে অচেনা পথচারী ও চালকদের গন্তব্য চিহ্নিত করতে পোহাতে হতো চরম ভোগান্তি। বিষয়টি অনুধাবন করে এস এম তারেকের নেতৃত্বে এই তরুণ দলটি বিশেষ উদ্যোগ নেয়। তারা মহাসড়কটির সকল মাইলফলক ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করেন এবং নতুন করে রং করে গন্তব্যের নাম ও দূরত্ব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তাদের এই উদ্যোগের ফলে এখন সহজেই পথচারী ও দূরপাল্লার চালকরা দূরত্ব চিহ্নিত করতে পারছেন, যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।
শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাদের এই কল্যাণমুখী কাজ। ধর্মীয় পবিত্রতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দলটি এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ওযুখানা এবং পানির ট্যাংকি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ হাতে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শেওলা, ময়লা ও জীবাণু মুক্ত করতে তারা আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে ওযুখানা ও ট্যাংকি ধৌত করেন। নিয়মিত পানির ট্যাংকি পরিস্কার না থাকার কারণে সাধারণ মুসল্লিরা যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ছিলেন, তা থেকে মুক্তি মেলায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও নিয়মিত মুসল্লিরা।
তরুণদের এমন চমৎকার ও নিঃস্বার্থ কাজে দারুণ সন্তুষ্ট এলাকার সচেতন নাগরিক ও বাসিন্দারা। প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, “বর্তমান যুগে যেখানে যুবসমাজ নানা বিভ্রান্তিতে পথ হারাচ্ছে, সেখানে এস এম তারেক ও তার দলের এই তরুণদের এমন নিঃস্বার্থ ও গঠনমূলক কাজ সমাজকে নতুন আলো দেখাচ্ছে। তাদের এই কাজ অন্য তরুণদের জন্যও অনুকরণীয়।”
উদ্যোগটির মূল সমন্বয়ক এস এম তারেক জানান, “আমরা অনেকেই সবসময় সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু ছোট ছোট অনেক কাজ আমরা নিজেরা সম্মিলিতভাবেই সমাধান করে ফেলতে পারি। আমাদের এলাকা ও সমাজকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। এটি কোনো প্রচারের জন্য নয়, সম্পূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে করা। ভবিষ্যতেও আমাদের এই পরিচ্ছন্নতা ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বা আর্থিক সহায়তা ছাড়া কেবল নিজেদের জমানো অর্থ ও অক্লান্ত শ্রমে তরুণদের এমন সামাজিক দায়বদ্ধতা সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই তরুণদের কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং উৎসাহিত করতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।